পঞ্চম পরিচ্ছেদ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মৎস্য ক্ষেত্রে অভিযোজন কলাকৌশল

নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - কৃষিশিক্ষা - কৃষি ও জলবায়ু | NCTB BOOK
794
Summary

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৎস্য জীববৈচিত্র্য ও উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা কাটিয়ে উঠা জরুরি। এ জন্য নিম্নলিখিত অভিযোজন কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে:

  • লবণাক্ত মাছের চাষ: লবণাক্ততা সহনশীল মাছের চাষ ও পোনা উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া। যেমন: ভেটকি, বাটা, পারশে।
  • চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ: লবণাক্ত জলাশয়ে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ কার্যকর।
  • খরা প্রতিরোধ: খরা প্রবণ এলাকায় স্বল্প সময়ের পানিতে বড় পোনা চাষ করা। তেলাপিয়া এবং দেশি মাগুর চাষ।
  • বন্যা প্রতিরোধ: বন্যাপ্রবণ এলাকায় পুকুরের পাড় উঁচু করে বেঁধে দেয়া এবং সমাজভিত্তিক পোনা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা।
  • খাঁচায় মাছ চাষ: বন্যার সময় খাঁচায় মাছ চাষের আয়োজন করা।
  • পরিকল্পিত চাষ: জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও জনদুর্ভোগের এলাকায় পরিকল্পিত মাছ ও কাঁকড়া চাষ করা।
  • তাপমাত্রা সহনশীল মাছ: তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে মাছের চাষ ও পোনা উৎপাদন। যেমন: মাগুর, রুই, শিং।
  • তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: পুকুরে বাঁশের ফ্রেম তৈরি করে মাছের জন্য শীতল জায়গা তৈরি।
  • নতুন বিচরণ এলাকা: সামুদ্রিক মৎস্য বিচরণ এলাকার পরিবর্তন চিহ্নিত করে জেলেদের জন্য গবেষণা ও জরিপের উদ্যোগ নেয়া।

জলবায়ু পরিবর্তন মৎস্য জীববৈচিত্র্য ও উৎপাদনে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে তা কাটিয়ে উঠা জরুরি । অন্যথায় একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে অন্যদিকে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হবে। জলবায়ুর পরিবর্তনের এই নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠার জন্য পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ-খাইয়ে চলার উদ্যোগ নিতে হবে। এ উদ্দেশ্যে নিম্নলিখিত অভিযোজন কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে-

১। জলবায়ু পরিবর্তনে যেহেতু উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে তাই লবণাক্ততা সহনশীল মাছের চাষ এবং পোনা উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে । যেমন-ভেটকি, বাটা, পারশে ইত্যাদি ।

২। লবণাক্ততা বেড়ে চলছে এমন জলাশয়ে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ করা যেতে পারে ।

৩। খরা প্রবণ এলাকা যেখানে বৃষ্টিপাত কম হয় সেখানে স্বল্প সময়ের পানিতে বড় পোনা চাষ করা যায় । এজন্য এলাকায় বড় পোনা মজুদ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে । তেলাপিয়া বেশ খরা সহনশীল একটি মাছ । খরা অঞ্চলে কই ও দেশি মাগুরের চাষও করা যেতে পারে ।

৪। বন্যাপ্রবণ বা অধিক বৃষ্টিযুক্ত এলাকায় পুকুরের পাড় উঁচু করে বেঁধে দিতে হবে বা নেট দিয়ে ঘিরে দিতে হবে যেন বন্যার পানি পুকুরে প্রবেশ করতে না পারে বা পুকুর ভেসে মাছ বেরিয়ে যেতে না পারে ।

৫। বন্যাপ্রবণ এলাকায় পুকুরের পাড় উঁচু করে সমাজভিত্তিক মৎস্য পোনা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যায় । ঐ এলাকায় যে সময়ে বন্যা হয় না সে সময়ে ঐ পোনা পুকুরে মজুদ করা যায় ।

৬। বন্যাপ্রবণ এলাকায় বন্যার সময়টাতে খাঁচায় মাছ চাষ করা যেতে পারে ।

৭। উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ ভেঙে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও জনদুর্ভোগের এলাকাগুলোতে পরিকল্পিত মাছ চাষ, খাঁচায় মাছ চাষ ও কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে সে পানিকে কাজে লাগানো যায় ।

৮। দিন দিন পরিবেশের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তাপমাত্রা সহনশীল মাছ চাষ ও এদের পোনা উৎপাদনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় । যেমন- মাগুর, রুই, শিং ।

৯ । তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে পুকুরের পানি গরম হয়ে গেলে পুকুরে কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে বাঁশের ফ্রেম তৈরি করে তাতে টোপাপানা রাখা যেতে পারে । এতে করে মাছ গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এর নিচে অবস্থান নিতে পারবে। একই উদ্দেশ্যে পুকুরের পাড়ে পানির উপর কিছু লতানো উদ্ভিদ জন্মানোর সুযোগ দেওয়া যেতে পারে । প্রয়োজনে বাইরে থেকে কিছু পানি সেচ দেওয়া যেতে পারে ।

১০ । জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামুদ্রিক মৎস্য বিচরণ এলাকা পরিবর্তন হচ্ছে । ফলে তা যেন জেলেদের মৎস্য আহরণে ও জীবিকা নির্বাহে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে এ লক্ষ্যে নতুন বিচরণ এলাকাসমূহ চিহ্নিত করতে হবে । এ জন্য আধুনিক গবেষণা ও জরিপ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে ।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...